অভিন্ন নিয়ম না থাকলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা ‘বিশৃঙ্খলায়’ নিমজ্জিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সংস্থাটি সংস্কারের প্রয়োজনও তুলে ধরেন তিনি। এ বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ডব্লিউটিও মহাসচিব। খবর আনাদোলু।
জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, ‘প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য দ্বিপক্ষীয় সংস্থাগুলো এখনো অপরিহার্য।’
তিনি বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার এ সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রয়োজনীয়। ডব্লিউটিওর মতো ফোরাম দেশগুলোকে একত্র হওয়ার এবং এসব সমস্যা মোকাবেলার চেষ্টায় সুযোগ করে দেয়।’
ডব্লিউটিওর ‘বর্তমান অবস্থা টেকসই নয়’ বলেও উল্লেখ করেন ওকোনজো-ইওয়েলা। তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোকে কার্যকর হতে হলে পরিবর্তন আনতেই হবে।’
ওকোনজো-ইওয়েলা সতর্ক করেন, ডব্লিউটিওর নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা না থাকলে ব্যবসায়ীরা শুল্কহার, পণ্যের মানদণ্ড ও শুল্কপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তার মতে, প্রতিটি দেশ নিজেদের ইচ্ছামতো বাণিজ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
এ সময় ১৯৩০-এর দশকের সুরক্ষাবাদী নীতির ঘূর্ণাবর্তকে সতর্কবার্তা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। ডব্লিউটিও প্রধান বলেন, ‘কেউই খারাপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।’
চলতি বছরের শেষ দিকে ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তাৎক্ষণিক সমাধানের বদলে ‘সামগ্রিক সংস্কারের’ একটি কর্মসূচি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা। তিনি বলেন, ‘বর্তমান উত্তেজনার অন্যতম কারণ হলো বৈশ্বিক বাণিজ্যে পরিবর্তন ও বৈষম্য, যা মোকাবেলায় হালনাগাদ নিয়ম ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’
ডব্লিউটিও মহাসচিব আরো বলেন, ‘শুধু দুর্বলতা মোকাবেলা করলেই হবে না, বরং ডিজিটাল ও পরিচ্ছন্ন বাণিজ্যের মতো সুযোগ কাজে লাগাতে হবে ডব্লিউটিওকে। আমাদের শুধু সহনশীল হলেই চলবে না। শক্তিশালী হতে হবে। আর শক্তিশালী হতে হলে সংস্কার করতেই হবে।’